জামায়াতে ফিরলো নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ
নন্দীগ্রামে বিএনপি সেজে প্রতারণা
বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিএনপি সেজে প্রতারণা করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক কর্মী সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহিমসহ জামায়াতে যোগ দেওয়া কয়েকজনের আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততা ও নৌকার প্রচারণার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিএনপির দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা কৌশলে জামায়াতে ফিরেছে। তারা কখনোই বিএনপির নেতাকর্মী ছিল না। তবে জামায়াত বলছে, তারা যোগদান অনুষ্ঠানে নিজেদের বিএনপির লোক পরিচয় দিয়েছে। সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে নন্দীগ্রাম উপজেলার রায়পুর কুস্তা ফুলবাড়ি মাঠে যোগদান অনুষ্ঠান আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয় ফারুক হোসেন ও ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক জনতা জামায়াতে যোগদান করে। তাদেরকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করেন বগুড়া-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ।
বিএনপি ছেড়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান করেছে উল্লেখ করে ফেসবুকে প্রচার হলে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে নব্য যোগদান করা ইউপি সদস্য আব্দুর রহিমের আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানার সঙ্গে হাট-বাজারে নৌকা প্রতীকের প্রকাশ্য প্রচারণা করেন ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম। উপজেলা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করে নৌকার প্রার্থী রানার পক্ষে ভোট নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আব্দুর রহিমের দাবি, আওয়ামী লীগের সময় চাপে পড়ে তাদের সঙ্গে মিশতে বাধ্য হয়েছি। আমরা জামায়াত সমর্থক ছিলাম।
এছাড়া জামায়াতে যোগ দেওয়ার সময় ফারুক হোসেন নামের একজন ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি পরিচয় দিয়েছেন। বিএনপির কোনো কমিটির কাগজে তার নাম পাওয়া যায়নি। ফারুক হোসেনের দাবি, তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে বিএনপি করেন। মৌখিকভাবে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
ভাটগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক ইউপি আব্দুল হাসেম জানান, ওয়ার্ড সভাপতি দাবি করা ফারুক বিএনপির কেউ নন। কোনো কমিটিতে তার নাম নেই। তিনি বিএনপি সেজে প্রকাশ্য প্রতারণা করেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা কৌশলে জামায়াতে ফিরেছে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার বলেন, মৌখিক সভাপতি বলাটা হাস্যকর। তারা কখনোই বিএনপির নেতাকর্মী ছিল না। জামায়াতে যারা যোগদান করেছে, তারা আগে জামায়াত, পরে ভাগবাটোয়ারা খেতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ছিল। বিএনপির জনপ্রিয়তা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর বলেন, একসময় ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম খাসি জবাই করে আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিল। এখন আবার জামায়াতে যোগ দিচ্ছে। তাদেরকে বিএনপির নেতাকর্মী উল্লেখ করে গুজব ছড়ানো হয়েছে। বেশকিছুদিন ধরেই ফেসবুকে বিএনপির বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও ট্যাগিং করছে জামায়াত নেতাকর্মী।
এ ব্যাপারে বগুড়া-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, ৫২-৫৩ জন জনতা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। তারা নিজেদের বিএনপি নেতাকর্মী পরিচয় দিয়েছে। স্থানীয় জামায়াত নেতারা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েই যোগদান করিয়েছে।












