সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

জামায়াতে ফিরলো নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ

নন্দীগ্রামে বিএনপি সেজে প্রতারণা

মোঃ রাকিব বাবু, নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৪০ পিএম
নন্দীগ্রামে বিএনপি সেজে প্রতারণা

বগুড়ার নন্দীগ্রামে বিএনপি সেজে প্রতারণা করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক কর্মী সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহিমসহ জামায়াতে যোগ দেওয়া কয়েকজনের আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততা ও নৌকার প্রচারণার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিএনপির দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা কৌশলে জামায়াতে ফিরেছে। তারা কখনোই বিএনপির নেতাকর্মী ছিল না। তবে জামায়াত বলছে, তারা যোগদান অনুষ্ঠানে নিজেদের বিএনপির লোক পরিচয় দিয়েছে। সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে নন্দীগ্রাম উপজেলার রায়পুর কুস্তা ফুলবাড়ি মাঠে যোগদান অনুষ্ঠান আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয় ফারুক হোসেন ও ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক জনতা জামায়াতে যোগদান করে। তাদেরকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করেন বগুড়া-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ।

বিএনপি ছেড়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে যোগদান করেছে উল্লেখ করে ফেসবুকে প্রচার হলে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে নব্য যোগদান করা ইউপি সদস্য আব্দুর রহিমের আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানার সঙ্গে হাট-বাজারে নৌকা প্রতীকের প্রকাশ্য প্রচারণা করেন ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম। উপজেলা নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করে নৌকার প্রার্থী রানার পক্ষে ভোট নেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আব্দুর রহিমের দাবি, আওয়ামী লীগের সময় চাপে পড়ে তাদের সঙ্গে মিশতে বাধ্য হয়েছি। আমরা জামায়াত সমর্থক ছিলাম।

এছাড়া জামায়াতে যোগ দেওয়ার সময় ফারুক হোসেন নামের একজন ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি পরিচয় দিয়েছেন। বিএনপির কোনো কমিটির কাগজে তার নাম পাওয়া যায়নি। ফারুক হোসেনের দাবি, তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে বিএনপি করেন। মৌখিকভাবে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।

ভাটগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুল হাকিম ও সাধারণ সম্পাদক ইউপি আব্দুল হাসেম জানান, ওয়ার্ড সভাপতি দাবি করা ফারুক বিএনপির কেউ নন। কোনো কমিটিতে তার নাম নেই। তিনি বিএনপি সেজে প্রকাশ্য প্রতারণা করেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা কৌশলে জামায়াতে ফিরেছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন সরকার বলেন, মৌখিক সভাপতি বলাটা হাস্যকর। তারা কখনোই বিএনপির নেতাকর্মী ছিল না। জামায়াতে যারা যোগদান করেছে, তারা আগে জামায়াত, পরে ভাগবাটোয়ারা খেতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর ছিল। বিএনপির জনপ্রিয়তা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়ে একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর বলেন, একসময় ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম খাসি জবাই করে আনুষ্ঠানিক ভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিল। এখন আবার জামায়াতে যোগ দিচ্ছে। তাদেরকে বিএনপির নেতাকর্মী উল্লেখ করে গুজব ছড়ানো হয়েছে। বেশকিছুদিন ধরেই ফেসবুকে বিএনপির বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং ও ট্যাগিং করছে জামায়াত নেতাকর্মী।

এ ব্যাপারে বগুড়া-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, ৫২-৫৩ জন জনতা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। তারা নিজেদের বিএনপি নেতাকর্মী পরিচয় দিয়েছে। স্থানীয় জামায়াত নেতারা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েই যোগদান করিয়েছে।

খুলনা জর্জ কোটের সামনে দুজনকে গুলি করে হত্যা

খুলনা মহানগর প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৮:১৯ পিএম
খুলনা জর্জ কোটের সামনে দুজনকে গুলি করে হত্যা

খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের বাইরে দিনের বেলায় সশস্ত্র হামলায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

রোববার দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন খুলনা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম। নিহতরা হলেন—ফজলে রাব্বি ওরফে রাজন এবং হাসিব হাওলাদার।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জামিনে থাকা এই দুই ব্যক্তি সেদিন আদালতে হাজিরা শেষে ফটকের সামনে মোটরসাইকেল রেখে পাশের চায়ের দোকানে দাঁড়ান। ঠিক সেই সময় চার–পাঁচজন অস্ত্রধারী হেঁটে এসে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে আবারও হামলা চালিয়ে দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

গুলিবিদ্ধ হাসিবের ভাই শাকিল হাওলাদার জানান, সম্প্রতি একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে এসেছিলেন হাসিব।

খুলনা মহানগর পুলিশের খুলনা জোনের সহকারী কমিশনার শিহাব করিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানান, হামলার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

দেবীগঞ্জে গনশুনানিতে সাধারন মানুষের অভিযোগ শুনে সমাধানের আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:২১ পিএম
Shares14
অ- অ+
দেবীগঞ্জে গনশুনানিতে সাধারন মানুষের অভিযোগ শুনে সমাধানের আশ্বাস দিলেন জেলা প্রশাসক

oppo_2

আপনি কেমন জেলা প্রশাসক চান, জেলা প্রশাসকের কাছে আপনার প্রত্যাশা কি, জেলা প্রশাসকের কাছে আপনার কি কি অভিযোগ রয়েছে তা নিয়ে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে গনশুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩০ নভেম্বর রবিবার দুপুরে দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের হলরুমে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ গনশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান গনশুনানীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
গনশুনানীতে জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামানের নিকট গণশুনানি কালে দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, জনপ্রতিনিধি, মিডিয়াকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বীরমুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলার সাধারন লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
গনশুনানীতে তারা দেবীগঞ্জে বাস টার্মিনালের অভাব, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে থাকা খাসজমি দখল করে বসত নির্মান, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ, ভারতীয় গরু পাচার করে নিয়ে আসা, উপজেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক সংকট, নোংরা পরিবেশ, বিভিন্ন পাকা রাস্তার উপরে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে রাখা, সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাকারবারি বেড়ে যাওয়া, বিভিন্ন রাস্তাঘাটের সমস্যাসহ তাদের জায়গা জমির বিভিন্ন বিষয় সমস্যা নিয়ে অভিযোগ তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান তাদের প্রত্যেকের অভিযোগ শুনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে তার সমাধানেরও আশ্বাস দিলেন। সমাধানের ব্যাপারে তিনি সহযোগিতাও করবেন বলে জানান।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্ব করেন। দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন এ গনশুনানির আয়োজন ।
গনশুনানীতে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুমন ধর, উপজেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আজমল হোসেন, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আমীন আহসান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুদেব কুমার দাস, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় শাহজাদপুরে বিএনপির দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

মো: ইউনুছ আলী, জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ  প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১:৪০ পিএম
বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় শাহজাদপুরে বিএনপির দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

Oplus_131072

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় শাহজাদপুরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে পৌরসভার খঞ্জনদিয়া এলাকায় ড. এম. এ. মুহিতের নিজ বাসভবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি, শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জের উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. এম. এ. মুহিত।
দোয়া মাহফিলকে ঘিরে বিকেল থেকেই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, ওলামাদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের ঢল নামে। স্থানীয় আলেমগণ মিলাদ পরিচালনা করেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি, দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। এসময় দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনাও করা হয়।
মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এম. এ. মুহিত বলেন,
“বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা আজ দেশের মানুষের প্রার্থনা। তিনি জনগণের প্রিয় নেত্রী। আমরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি।”
তিনি আরও বলেন,
“অসুস্থ মানুষের জন্য দোয়া করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। এই মাহফিল মানবিকতার একটি প্রকাশ।”
আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা জানান—
“বেগম খালেদা জিয়া আমাদের আশা, শক্তি এবং গণতন্ত্রের প্রতীক। তাঁর অসুস্থতার খবর শুনে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনায় আজ আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি। আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন—এটাই আমাদের আন্তরিক দোয়া।”
×