৫০ লাখ প্রবাসীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ত্রয়োদশ নির্বাচনে ৪০০ কোটি ব্যয়..
Oplus_131072
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে অন্তত ৫০ লাখকে ভোটার তালিকাভুক্ত করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, প্রবাসীরা এবার ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন। এজন্য তৈরি হচ্ছে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে ৫০ লাখ ভোটারের ব্যালট সংগ্রহ ও ডাকযোগে প্রেরণ-গ্রহণে ভোটারপ্রতি খরচ ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা। সব মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যয় হবে আনুমানিক ৪০০ কোটি টাকা।
প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাবি ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে বিষয়টি গুরুত্ব দেন। তার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে এবং বেশ কয়েকটি বিকল্প পদ্ধতি আলোচনায় আনে। এর মধ্যে পোস্টাল ব্যালটকে সবচেয়ে কার্যকর মনে করে এ দিকেই এগোচ্ছে ইসি।
শুধু প্রবাসীরাই নন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারাগারে থাকা আসামীরাও এবার ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে দেশের ৭১টি জেলখানার বন্দিদের জন্যও এই প্রথমবারের মতো ভোটের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলকভাবে হলেও আসন্ন নির্বাচনে প্রবাসীরা ভোট দিতে পারবেন। এজন্য দ্রুত প্রবাসীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বিদেশে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ প্রবাসী আছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশের জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। সেই হিসাবে ৫০ লাখ ভোটারকে অন্তর্ভুক্ত করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
কীভাবে ভোট দেবেন প্রবাসীরা
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরে অ্যাপ তৈরির কাজ শেষ করা হবে। এরপর প্রবাসীরা অনলাইনে নিজের এনআইডি, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। নিবন্ধনের পর আলাদা ভোটার তালিকা তৈরি হবে। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর প্রতীকভিত্তিক ব্যালট পাঠানো হবে ডাক বিভাগের মাধ্যমে। প্রবাসী ভোটাররা ব্যালটে প্রতীক চিহ্নিত করে ডাকযোগে পাঠাবেন। সেই ভোট নির্বাচন দিনের আগে সংশ্লিষ্ট জেলা ট্রেজারিতে জমা থাকবে এবং মূল ভোটের দিন একসঙ্গে গণনা হবে।
ডাক বিভাগ জানিয়েছে, দূরবর্তী দেশে একটি চিঠি যেতে ও ফিরতে প্রায় ২৮ দিন সময় লাগে। তাই প্রবাসীদের ভোট নেওয়া হবে আগে থেকেই। প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যম ব্যবহার করা হবে। তবে এই সুবিধা শুধু তাদের জন্যই প্রযোজ্য হবে যাদের বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে।













