রুমির একাল ও সেকাল
বাংলা গানের জগতে একসময় যে কণ্ঠ রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছিল, তিনি আরিফিন রুমি। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে চাহাত, মন চুরি, ভালোবাসি তোমায়,প্রিয়তমা— এমন অসংখ্য হিট গানে মাতিয়ে রেখেছিলেন তরুণ-তরুণীদের হৃদয়। গানের কথায়, সুরে ও কণ্ঠে ছিল একধরনের জাদু, যা মুহূর্তেই মানুষের অনুভূতিকে স্পর্শ করত।
রুমির সেই “সেকাল” ছিল গানের এক সোনালি সময়। নিজের কণ্ঠে গাওয়া গানের পাশাপাশি অন্য শিল্পীদের জন্যও গান লিখেছেন, সুর করেছেন এবং প্রযোজনাও করেছেন। তখনকার মিক্স অ্যালবামগুলোতে তার গান না থাকলে যেন কিছু একটা অসম্পূর্ণ রয়ে যেত। বিশেষ করে প্রেম-বিরহের গান মানেই ছিল ‘রুমি ব্র্যান্ড’। সেই সময় তার গানে যেমন আধুনিকতা ছিল, তেমনি থাকত আবেগের গভীর ছোঁয়া।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সংগীতাঙ্গন বদলেছে, দর্শক-শ্রোতার রুচি বদলেছে, আর সেখানেই রুমির “একাল” এসেছে এক ভিন্ন মোড়ে। এখন আর আগের মতো নিয়মিত গান প্রকাশ করেন না। মাঝে কিছুটা আড়ালেও চলে গিয়েছিলেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইউটিউবের মাধ্যমে তিনি এখনো তার ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত থাকার চেষ্টা করছেন। মাঝে মাঝে কিছু গানের প্রজেক্টে অংশ নিলেও, আগের মত ধারাবাহিকতা আর চোখে পড়ে না।
তবে একালে রুমি শুধুই একজন কণ্ঠশিল্পী নন, বরং এখন তিনি একজন সফল সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও কাজ করছেন। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করছেন, নতুন ধারার গান তৈরির পেছনে অবদান রাখছেন। তার সংগীত জীবন অনেকটাই পেছন থেকে পরিচালনার দিকে মোড় নিয়েছে।
এক সময়ের হিটমেকার আজ নিজেকে খুঁজছেন নতুন রূপে। তবে তার অগণিত ভক্ত আজও অপেক্ষা করে একটি নতুন “প্রিয়তমা” কিংবা “ভালোবাসি তোমায়”— এমন গানের জন্য, যে গান এক নিমিষেই ফিরিয়ে দেবে তাদের সেই পুরোনো দিনের রুমিকে।













