বকশীগঞ্জে চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজে জেনারেল শাখায় পাসের হার শূন্য
বকশীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে চরম হতাশাজনক ফলাফলের খবর পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই পাসের হার খুবই কম, আর ফেলের সংখ্যা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে চন্দ্রাবাজ রশিদা বেগম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থীরা একটিও পাস করতে পারেনি।
কলেজের মানবিক শাখা থেকে মোট ৬ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, এর মধ্যে ৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী চারজনই অকৃতকার্য হয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন,
“আমরা অত্যন্ত হতাশ। কেন এমন হয়েছে তা খতিয়ে দেখার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার মান উন্নয়নে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
উপজেলার অন্যান্য কলেজের ফলাফলও হতাশাজনক
বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজ: ৭০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ২৩৩, অকৃতকার্য ৪৭৬। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন।
খাতেমুন মঈন মহিলা ডিগ্রী কলেজ: ২৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস ৭৯, অকৃতকার্য ১৮৬। জিপিএ-৫ ১ জন।
আলহাজ্ব আমানুজ্জামান মডার্ন কলেজ: ২৯৬ জনের মধ্যে পাস ১২৫, অকৃতকার্য ১৭১।
নিলাক্ষিয়া পাবলিক কলেজ: ৪১ জনের মধ্যে পাস ৫ জন।
রাহেলা কাদির স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ জন পাস।
উপজেলায় সাধারণ শাখায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩.৩৩ শতাংশ। মোট ১৩২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪৪০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৮৮০ জন। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে ১৮ জন। তবে বিএমটি শাখায় পাসের হার ৫৯.০৬ শতাংশ এবং আলিম পরিক্ষায় ৭৯.৮৮ শতাংশ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ জহুরুল হোসেন বলেন,
একটি কলেজের একটি বিভাগে কেউ পাস করেনি এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো এবং পাঠদানের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতি. দায়িত্ব) মোহাম্মদ আজাদুর রহমান ভুঁইয়া বলেন,
একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ বিভাগে অকৃতকার্য হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি স্কুল অ্যান্ড কলেজটির সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার উপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় সমাজের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় সকলেই।















